পটুয়াখালীর দশমিনায় ১৮ মাস বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে নতুন মডেলের আইফোন কেনার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মারুফ মুন্সি ও শিশুটিকে দত্তক নেওয়া ইমরান হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে দশমিনা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। একই সঙ্গে শিশু বিক্রির একটি লিখিত চুক্তিপত্রও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে দশমিনা থানা পুলিশের অভিযানে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মারুফ মুন্সিকে আটক করা হয়। পরে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়।
পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলাচিপা উপজেলার চর কাজল এলাকা থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, এক্সচেঞ্জ অফারের মাধ্যমে নতুন মডেলের আইফোন কিনেছেন মারুফ মুন্সি। এ জন্য পুরোনো আইফোনের সঙ্গে শিশুকে বিক্রি করে পাওয়া এক লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, শিশুটিকে তার দাদী লালন-পালন করতেন। পারিবারিক কারণে শিশুটির বাবা মারুফ ঢাকায় থাকতেন এবং তার স্ত্রী থাকতেন সাভারে বাবার বাড়িতে। প্রায় চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার বাড়িতে এসে নিজের সন্তানকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বের হন মারুফ। পরে ইমরান হোসেনের সঙ্গে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ওই টাকা নিয়ে রাজধানীতে গিয়ে নতুন মডেলের আইফোন কেনেন তিনি।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ঢাকায় মারুফ মুন্সি ও ইমরান হোসেন একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ইমরানের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান, শিশুটিকে বিক্রির বিষয়টি মারুফ তার স্ত্রী বা শিশুটির দাদীকে জানাননি। উদ্ধার করা শিশুটিকে পরবর্তীতে তার দাদীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন