বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) উদ্যোগে হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনবিষয়ক প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এ সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংক’স অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইন দ্য অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল রিজিয়ন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে সিটি ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তত্ত্বাবধানে ২২টি উপ-প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে।
বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান। তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় ২২টি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। পুরো প্রকল্পে সিটি ব্যাংক চার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক হাম্মাদুর রহমান আরও জানান, প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রমে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং চারজন পিএইচডি ফেলো অংশগ্রহণ করেন। গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরো কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
তিনি বলেন, উপ-প্রকল্পগুলোর গবেষণালব্ধ ফলাফলের মধ্যে ইতোমধ্যে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্পের সফলতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়নের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তা কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প, শিক্ষা ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম তৈরি, শক্তিশালী বাজারসংযোগ এবং কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডারের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভুঁইয়া হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে অর্থায়নের জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান। তিনি গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, ২২টি গবেষণা থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যা-ভিত্তিক সমাধানগুলো পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, গবেষণা সহজ কাজ নয়। বাকৃবির গ্রাজুয়েটরা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কৃষকের সংকট দূর করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের তৈরি করা হচ্ছে।
দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ২২টি গবেষণার ফলাফল সংশ্লিষ্ট গবেষকরা উপস্থাপন করেন। পরে গবেষকদের স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন