জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় জিসান হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। একই মামলায় অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদসহ ছয়জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
চার্জশিটে শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানকের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।
অভিযোগপত্রে আরও আসামি করা হয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ খান মুন্না, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, মেহেদী হাসান সুমন, শান্ত নূর খান, রবিউল ইসলাম হেলালী, সাবেক কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম খান দিলু, আবুল কালাম অনু, সাবেক কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, যুবলীগ নেতা ফয়সাল খন্দকার ও জাহাঙ্গীর আলমকে।
ছয়জনকে অব্যাহতির সুপারিশ
তদন্তে এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ কারণে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
যেভাবে জিসান নিহত হন
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলের ২ নম্বর তিতাস গ্যাস রোড এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পানি দেওয়ার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালান।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলমের হাতে থাকা রাইফেল থেকে ছোড়া একটি গুলি জিসানের ডান চোখের ওপর, ভ্রুর সামান্য নিচ দিয়ে ঢুকে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলাটির পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নিয়ে আগামী ৬ অক্টোবর আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন