সুন্দরবনে সক্রিয় চারটি জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৬-এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
র্যাব-৬-এর মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারী চারটি বাহিনীর মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, দুলাভাই ও আফজাল বাহিনীর ১৫ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্য রয়েছেন।
র্যাব জানায়, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ হাজারো মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য সরাসরি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কিছু দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও সামনে আসে।
এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে।
র্যাব-৬ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিভিন্ন দস্যুবাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় একযোগে চারটি জলদস্যুবাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণকে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র্যাব। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দস্যুবাহিনীগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা কমার পাশাপাশি সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ অন্যান্য বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
র্যাব-৬ জানিয়েছে, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যথাসময়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব-৬।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন