কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এআইকে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় না আনা পর্যন্ত বিচারকদের নিজেদের বিচক্ষণতা কাজে লাগিয়ে এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে লিগালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ এবং দ্য সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই-এর সহযোগিতায় আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে এআই মানুষকে বিভিন্নভাবে নির্দেশনা ও প্রভাবিত করতে পারে। এর কিছু সঠিক হতে পারে, আবার কিছু মানুষকে বিভ্রান্তও করতে পারে।
তিনি বলেন, কেউ যদি এআই ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাহলে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এমনকি ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা বিচারকরাও এআইয়ের ভুল তথ্য বা ব্যবহারের কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।
বিচারকদের এআই কীভাবে গ্রহণ ও ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব বিচারকের কাছেই। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের সময় এআইয়ের দেওয়া তথ্যের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে আইনের তত্ত্বে নতুনত্ব এসেছে। যুগের বিভিন্ন বাঁকে বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের গতি ও পরিধি নির্ধারিত হয়েছে। এআইও বিচারব্যবস্থার সামনে তেমনই একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এআই নিয়ন্ত্রণে একটি যথাযথ কাঠামো প্রণয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না, ততক্ষণ বিচারকদের নিজেদের বিচার-বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার ওপর নির্ভর করতে হবে।
এ সময় বাংলাদেশে আইনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিলের খসড়া তৈরি করা প্রয়োজন। সেই খসড়া হাতে পেলে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা, সম্পাদনা, সংযোজন-বিয়োজন ও সংশোধনের মাধ্যমে তা সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এআই ব্যবহার করতে চায় এবং এআই নিষিদ্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে এআইয়ের ব্যবহার যাতে কোনোভাবেই অপব্যবহারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন