‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এর পাস প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য এরই মধ্যে কমিটির বৈঠক বর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন দলটির সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন খসড়ায় শাস্তির বিধানসহ বেশ কিছু বিষয় আরও কঠোর করা হয়েছে। তাই বিলটি নিয়ে বিরোধিতার সুযোগ নেই। জামায়াত চাইলে জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তাদের আপত্তির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন হতে পারে।
এর আগে ৩০ আগস্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিলটি পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হলে জামায়াতের দুই সদস্য ড. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।
বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে নাজিবুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বিলটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মাত্র দুই কার্যদিবসে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করায় অংশীজন ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও সুযোগ রাখা হয়নি।
তিনি বিলটিকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ২০০৯ সালের আইনের মতো এবারও কমিশনকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সরকার কর্তৃত্ববাদী হলে যাতে কমিশন কার্যকরভাবে কথা বলতে না পারে, সে জন্যই এর ক্ষমতা সীমিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের আপত্তি যেখানে
জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর দলের অবস্থান তুলে ধরে নাজিবুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সরকার বাতিল করেছে। তাদের দাবি, অধ্যাদেশ বাতিল না করে সেটিকেই আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনা যেত।
তার অভিযোগ, সরকার শক্তিশালী করার কথা বললেও নতুন খসড়ায় কমিশনের ক্ষমতা আরও দুর্বল করা হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।
নাজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে কমিশন প্রথমে পুলিশের কাছেই প্রতিবেদন চাইতে পারবে। কিন্তু পুলিশ কী জবাব দেবে বা কত দিনের মধ্যে দেবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে কমিশন কার্যত দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্যারিস নীতিমালাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যেসব বাধ্যবাধকতা রয়েছে, নতুন বিলের কারণে সেগুলোও লঙ্ঘিত হতে পারে। এসব কারণে জামায়াত বিলটি পাসের কোনো পর্যায়েই সম্পৃক্ত হবে না।
সরকারের অবস্থান
বিলটি নিয়ে জামায়াতের আপত্তির বিষয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, অধ্যাদেশে যেসব অপরাধের জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান ছিল, নতুন খসড়ায় সেখানে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে নতুন খসড়া দুর্বল হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন।
চিফ হুইপ বলেন, জামায়াত চাইলে বিলের কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তা সংসদে তুলে ধরতে পারে। তারা সরকারের বাইরে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারে, তবে সংসদে দায়িত্বশীলভাবে বক্তব্য দেওয়া উচিত।
২০২৫ সালের অধ্যাদেশে কী ছিল
২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে কমিশনকে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশনের স্বাধীন অনুসন্ধান ও তদন্তের সুযোগ ছিল।
তদন্ত শেষে শাস্তি, ক্ষতিপূরণ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও কমিশনের ছিল। সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা ক্ষেত্রবিশেষে কমিশনের অনুমতির বিধান ছিল। এ জন্য সরকারের বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন ছিল না।
এ ছাড়া কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কার্যালয় স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
নতুন খসড়ায় শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
২০২৬ সালের নতুন খসড়ায় শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, সরকারি গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থা, র্যাবসহ বিশেষ ও যৌথ বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিবেদন চাইতে হবে। প্রতিবেদন পেয়ে কমিশন সন্তুষ্ট হলে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেবে না। সন্তুষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করতে পারবে।
সুপারিশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কমিশনকে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে জানানো না হলে বা গৃহীত ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হলে কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে সাধারণ অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অনুযায়ী কার্যক্রম নিতে পারবে।
এই পরিবর্তনকে কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা সংকুচিত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে থাকা স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা বাদ দিয়ে নতুন খসড়ায় মূলত ২০০৯ সালের আইনের মতো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
নতুন খসড়ায় কমিশনের ক্ষমতা
নতুন খসড়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একজন চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠিত হবে এবং তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকবেন।
চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। বাছাই কমিটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন বা মনোনয়ন আহ্বান করে প্রতিটি পদের বিপরীতে দুজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে।
আইন, বিচার, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী অধিকার, পরিবেশসহ মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।
চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। অপসারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো পদ্ধতি অনুসরণের বিধান রাখা হয়েছে।
অভিযোগ, তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ
নতুন খসড়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ লিখিত, মৌখিক বা নির্ধারিত অন্য কোনো মাধ্যমে বিনা ফিতে করার সুযোগ রাখা হয়েছে। গণমাধ্যমসহ অন্য কোনো মাধ্যম থেকে তথ্য পেলেও কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সাধারণভাবে ঘটনার ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ করতে হবে। তবে ভুক্তভোগীর শারীরিক বা আইনগত অসামর্থ্য, ভয়ভীতি, বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে যুক্তিসঙ্গত কারণে কমিশন বিলম্ব মওকুফ করতে পারবে।
অভিযোগ পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা যাবে। তদন্ত শেষ করতে হবে তিন মাসের মধ্যে। প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানো যাবে।
অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয়, শৃঙ্খলামূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করে কমিশনকে জানাতে হবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তার দ্বিগুণ বা তার বেশি ক্ষতিপূরণ ভুক্তভোগী বা তার আইনানুগ প্রতিনিধিকে দেওয়ার নির্দেশ কমিশন দিতে পারবে। অনাদায়ী ক্ষতিপূরণ ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরের মাধ্যমে আদায়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জবাবদিহির আওতায়
নতুন খসড়ার ২৭ ধারায় কমিশনের আদেশ প্রতিপালন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি কমিশনের আদেশ অমান্য করলে বা গাফিলতি করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কমিশনের আদেশ না মানলে মালিক, অংশীদার, স্বত্বাধিকারী, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার, ম্যানেজার বা এজেন্টকে দায়ী হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারবেন যে ব্যর্থতা তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে অথবা তা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
সাংবাদিক ও তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা
গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনের স্বপ্রণোদিত তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ কমিশন বা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রকাশকারীকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১-এর অধীনে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রতিশোধ, ভয়ভীতি, হুমকি বা অন্য কোনো বিরূপ কার্যক্রম থেকে তাদের সুরক্ষার জন্য কমিশন আদেশ দিতে পারবে।
জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট
নতুন খসড়ায় ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট’ বা ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম ইউনিট’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণ প্রতিরোধে এই ইউনিট কাজ করবে।
কারাগার, হাজতখানা, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, সংশোধনাগার, থানা, অভিবাসী আটক কেন্দ্র, মানসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, বন্দি পরিবহন, সেফ হোম ও পরিচর্যা কেন্দ্রসহ ব্যক্তিস্বাধীনতা সংকুচিত হয়—এমন স্থানে পূর্বঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শনের ক্ষমতা থাকবে ইউনিটটির। আটক ব্যক্তিদের গোপনে সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য পাওয়ার সুযোগও থাকবে।
আর্থিক স্বাধীনতা ও পুরোনো আইনের ধারাবাহিকতা
নতুন খসড়ায় মানবাধিকার কমিশন তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অনুদান নেওয়া যাবে। অনুমোদিত খাতে অর্থ ব্যয়ের জন্য সরকারের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। মহাহিসাব-নিরীক্ষক কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করবেন।
খসড়ার ৪১ ধারায় ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পুরোনো আইনের অধীনে চলমান কার্যক্রম ও মামলা বহাল থাকবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত বিল নিয়ে মূল বিতর্কের জায়গা হচ্ছে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন কতটা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে। জামায়াতের আপত্তি মূলত এই বিধানকে ঘিরে। অন্যদিকে নতুন খসড়ায় ক্ষতিপূরণ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা, আর্থিক স্বাধীনতা এবং জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিটসহ বিভিন্ন নতুন ক্ষমতার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে টিআইবির দাবি, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন খসড়ায় কমিশনের স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন