শেফিল্ড ইউনাইটেডে স্থায়ীভাবে ফেরার পরদিনই নতুন মৌসুমে প্রথমবার মাঠে নামলেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে দলকে নাটকীয় জয় এনে দিতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
ব্রামল লেনে চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে বল্টন ওয়ান্ডারার্সকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে জয় পেলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকার সুযোগ ছিল না হামজার।
ম্যাচের শুরুটাই শেফিল্ডের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ২৩ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল হজম করে স্বাগতিকরা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে থিয়েরি গ্যালে এগিয়ে গিয়ে ক্রস করেন। হামজা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও ক্রসটি ঠেকাতে পারেননি। ফিরতি বল থেকে জাভিয়ের সিমন্স গোল করে বল্টনকে এগিয়ে দেন।
তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে শেফিল্ড। চতুর্থ মিনিটে সিডি পেকের ফ্রি-কিক থেকে জাফেত টাঙ্গাঙ্গার হেডে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বিরতির আগে হামজার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে বল্টন আরও বেশি চাপ তৈরি করে। একের পর এক আক্রমণে শেফিল্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে সফরকারীরা। ৬৭ মিনিটে সেই চাপের ফলও আসে। থিয়েরি গ্যালের ক্রস থেকে সাম ডালবি গোল করে বল্টনকে আবারও এগিয়ে দেন।
তবে এক মিনিট পরই সমতায় ফেরে শেফিল্ড। সাম ম্যাককালামের ক্রস থেকে প্যাট্রিক ব্যামফোর্ড কাছ থেকে বল জালে পাঠান। এরপর ম্যাচে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। বল্টনের একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে শেফিল্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক মাইকেল কুপার।
শেষ পর্যন্ত নাটকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যোগ করা সময় পর্যন্ত। ৯০+৩ মিনিটে ক্যালভিন ফিলিপসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণ করে রোমেল ডোনোভান দুর্দান্ত শটে বল্টনের জালে পাঠান। চ্যাম্পিয়নশিপে এটিই ডোনোভানের প্রথম গোল। তার গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শেফিল্ড ইউনাইটেড।
শেফিল্ডের হয়ে গত মৌসুমে ধারে খেলেছিলেন হামজা। গত ৩১ আগস্ট স্থায়ীভাবে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার এক দিন পরই নতুন মৌসুমে মাঠে নামেন তিনি। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার তাকে একাদশে রেখে পুরো ম্যাচ খেলার সুযোগ দেন।
রাইটব্যাক পজিশনে খেলায় পুরো ম্যাচে হামজাকে অবশ্য খুব একটা স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার তার পারফরম্যান্সে ১০-এর মধ্যে ৫ রেটিং দিয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে বল্টনের আক্রমণ ঠেকাতে না পারা এবং পরে গোলের সুযোগ নষ্ট করায় তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তবে ব্যক্তিগত অস্বস্তি পেছনে ফেলে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হামজা। ম্যাচ শেষে ব্রামল লেনে ফিরে আসার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, এই মাঠ ও এখানকার সমর্থকেরা তার কাছে বিশেষ। শুরুতেই গোল হজম করাটা তারা চাননি, তবে সতীর্থদের লড়াইয়ের মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর শেফিল্ডের জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছেন হামজা। ব্যক্তিগতভাবে রাতটি নিখুঁত না হলেও শেষ মুহূর্তের জয় তার প্রত্যাবর্তনকে দিয়েছে স্বস্তির উপলক্ষ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন