রাজধানীর বনানীতে মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া গাড়ি ও এর চালককে আটক করেছে পুলিশ। প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরা মেঘলা মুক্তা এ খবর পেলেও পুলিশের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার পর কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি পুরো ঘটনায় ‘ভীষণ হতাশ’ ও ‘ক্ষুব্ধ’ বলে জানিয়েছেন।
গত ২৮ জুলাই রাতে বনানী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে পথচারী ও স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওই রাতেই মেঘলার বন্ধু ও সহশিল্পী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করেন। দুর্ঘটনার পর প্রায় এক মাস আইসিইউ ও কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন মেঘলা। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার মুখে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়। সম্প্রতি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মেঘলার সহকর্মীরা বনানী থানায় গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশের তৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর মেঘলার বাবা বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেন।
এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ মেঘলা মুক্তার পরিবারকে গাড়িসহ চালককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পুলিশ জানায়, গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তানভীর আহমেদের নির্দেশে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়।
তবে গাড়ি ও চালক শনাক্তের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেঘলা মুক্তা। তার অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর থেকে বনানী থানা-পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। গাড়িটি শনাক্ত করতে তার পরিবারের সদস্যদের বারবার থানায় যেতে হয়েছে।
মেঘলার আরও অভিযোগ, চালককে আটকের পরও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও গড়িমসি ছিল। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারকে গাড়ি ও চালক আটকের বিষয়টি জানালেও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও বিচারের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মেঘলা মুক্তা ও তার পরিবার।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মেঘলা মুক্তা বলেন, জীবনে আগে কখনো আইনি ঝামেলা বা থানা-পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে আইনি প্রতিকার পেতে আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গাড়িসহ আটকের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আইনগতভাবে কোনো ত্রুটি হবে না। আটক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হবে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন