নাটোরের বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে রাজশাহী থেকে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী থেকে শুধু রংপুর ও খুলনা বিভাগের বাস চলাচল বন্ধ ছিল। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালে শনিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বাসের টিকিট কাউন্টার খোলা রয়েছে। তবে অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে টিকিট কিনতে আসা যাত্রীদেরও টিকিট দেওয়া হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বাসের সহকারী ব্যবস্থাপক জানান, ভোর থেকে কয়েকটি বাস চলাচল করলেও সকাল ৯টার দিকে শ্রমিক ও কয়েকজন বাস মালিক বাস চলাচল বন্ধের কথা জানান। শুক্রবার ও শনিবার ঢাকাগামী যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় অনেক যাত্রীকে টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে।
ভোগান্তিতে যাত্রীরা
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে দুই শিশুকে নিয়ে গাজীপুর যাওয়ার জন্য রাজশাহীতে আসেন মোর্শেদা বেগম (৫৫)। তিনি বলেন, ছোট দুই শিশুকে নিয়ে কীভাবে ঢাকায় যাবেন, তা বুঝতে পারছেন না। বাসায় ফিরে যাওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাগমারা থেকে ঢাকার উদ্দেশে শিরোইল বাস টার্মিনালে আসা চাকরিজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। কাউন্টারে এসে জানতে পারেন বাস বন্ধ রয়েছে। বাস কখন চলবে, সে বিষয়েও কাউন্টার থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তাই রাতে ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
যে কারণে বাস চলাচল বন্ধ
পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, নাটোরের বাস শ্রমিকরা ‘রাব্বি পরিবহন’-এর একটি বাস আটকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংকটের শুরু। বাসটি রাজশাহী থেকে চুয়াডাঙ্গা হয়ে দর্শনা রুটে চলাচল করে।
রাব্বি পরিবহনের মালিক রজব আলী বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে রাজশাহী থেকে দর্শনা রুটে বাস চালানোর বিষয়ে নাটোর মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা এতে সম্মতি দেয়নি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে নাটোরে রাব্বি পরিবহনের একটি বাস আটকে শ্রমিককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রজব আলী আরও বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর রাজশাহীর পক্ষ থেকে নাটোরের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়। তার দাবি, রাব্বি পরিবহনের বাসটি এখনও ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে নাটোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি লক্ষ্মণ পোদ্দার বলেন, রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নিয়ম না মেনে রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে আলমডাঙ্গা রুটে চলাচলের কথা জানিয়েছিল। এতে নাটোর মালিক সমিতি সম্মতি না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে যাত্রীসহ নাটোরের নয়টি বাস আটকে শ্রমিকদের মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর কোনো বাসকে নাটোরের ওপর দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, শুক্রবার নাটোরের পরিবহন নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা আলোচনায় বসতে রাজি হননি। পরে নাটোরের পক্ষ থেকে রাজশাহীর কোনো বাসকে নাটোরের ওপর দিয়ে চলাচল করতে না দেওয়ার কথা জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন