গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর, পেট ফাঁপা ও খাবারের পর পেটে অস্বস্তি—এসব সমস্যা বর্তমানে অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। অনেকেই এসব উপসর্গকে সাধারণ মনে করে দীর্ঘদিন অবহেলা করেন কিংবা নিজের মতো করে ওষুধ সেবন করেন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা স্বাভাবিকভাবে না নিয়ে এর কারণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত চা-কফি পান, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ এবং খাবারের পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাসও বুকজ্বালা ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত সময়ে পরিমিত খাবার গ্রহণ, দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকা এবং অতিরিক্ত ঝাল, তেল ও ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা গুরুত্বপূর্ণ। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাবারের পরপরই শুয়ে না পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও উপকারী।
তবে বারবার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘস্থায়ী বুকজ্বালা, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, খাবার গিলতে সমস্যা, রক্তবমি, কালো পায়খানা কিংবা অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডা. মাজহারুল ইসলাম
এমবিবিএস (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ)
বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস -এফপি (গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি)
মেডিকেল অফিসার
সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন