স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের ধরন ও পরিধিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধিতে মিছিল, পোস্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি সুবিধা ব্যবহার, মাইক, বিলবোর্ড ও নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনসহ প্রচারের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে নতুন করে নির্বাচনী আচরণবিধিমালা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর বিধিমালাও প্রক্রিয়াধীন।
মিছিল-পোস্টার নিষিদ্ধ
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু, কালভার্ট, মেট্রোরেলের পিলার ও ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানোও নিষিদ্ধ।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য মিছিল করা যাবে না।
এআই কনটেন্টেও নিষেধাজ্ঞা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কুৎসা, অপমানজনক বক্তব্য, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া এআই ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারও করা যাবে না।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, গোষ্ঠী বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মাইক ব্যবহারে সময়সীমা
নির্বাচনী প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্র দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। একই ওয়ার্ডে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।
সরকারি সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ
সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিলবোর্ড ও যানবাহন ব্যবহারে বিধিনিষেধ
বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন ১৬ ফুট বাই ৮ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ
নতুন আচরণবিধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে, সে তথ্য আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম, পেশিশক্তির ব্যবহার, ধর্মের অপব্যবহার, কুৎসা রটানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল ও শাস্তি
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এ ছাড়া আচরণবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়ায় আচরণবিধি ভিন্ন ছিল। এখন নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়ায় নতুন আচরণবিধি করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইসি আগামী নভেম্বরের শেষার্ধ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন