রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দিনের সরকারি সফরকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে সাজসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’ এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ শহরে ফিরছেন—এ বিষয়টি সফরকে ঘিরে বাড়তি আবেগ ও কৌতূহল তৈরি করেছে।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরের সব কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মসূচির স্থান ও যাতায়াতের পথে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনের কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রাষ্ট্রপতির। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে।
সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর শহরের সেনুয়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে বাবা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমীন ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।
পরে কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে গিয়ে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নিজ বাসভবনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
ঠাকুরগাঁওয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। তাই এই কর্মসূচিকে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য জেলায় যেতে হবে না বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আরেক বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘আলমগীর স্যার’ নামে পরিচিত একজন মানুষ রাষ্ট্রপতি হয়ে নিজের শহরে ফিরছেন—এটি স্থানীয়দের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর দিকেও নজর দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ দরকার।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। তাই নিজের মানুষের কাছে তার ফিরে আসা জেলার মানুষের জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও জেলার স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেও পুলিশ কাজ করছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন