স্বামীকে হারানোর পর সংসারের হাল ধরতে নদীতে জাল টেনে মাছ ধরতেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পারভীন খাতুন। কখনো মাছ মিলত, কখনো ফিরতে হতো খালি হাতে। সেই অনিশ্চিত আয়ের ওপরই চলত সংসার।
স্বামী হারিয়ে একই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন খাদিজা খাতুনও। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাদের জীবন। খাদিজা পেয়েছেন একটি টেইলারিংয়ের দোকান, আর পারভীন পেয়েছেন চাল ও পোলট্রি ফিডের ব্যবসার সুযোগ। এখন দুজনই চেষ্টা করছেন স্বাবলম্বী হওয়ার।
সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের এমন ৪০ জন বাঘবিধবাকে নিয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাবিষয়ক বিশেষ সেশন।
পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সিএমসি কার্যালয়ে ‘মন সুস্থ থাক, জীবন এগিয়ে যাক ৩.০’ শীর্ষক এ সেশনের আয়োজন করে জেসিআই ঢাকা সাউথ। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (আইসিডি)।
সেশনে বাঘবিধবারা স্বামী হারানোর পরের জীবনের কষ্ট, অর্থনৈতিক সংকট, সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও ঘুরে দাঁড়ানোর নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
খাদিজা খাতুন বলেন, স্বামীকে হারানোর পর অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। জেসিআইয়ের সহায়তায় পাওয়া টেইলারিংয়ের দোকানটি এখন তার জীবিকার একটি পথ। মানসিক সাহস ও কাজের সুযোগ তাকে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা দিচ্ছে।
পারভীন খাতুন বলেন, আগে নদীতে জাল টেনে মাছ ধরে কষ্ট করে সংসার চালাতেন। এখন জেসিআইয়ের সহায়তায় চাল ও পোলট্রি ফিডের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
আয়োজকরা বলেন, বাঘবিধবাদের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়; স্বামী হারানোর শোক, জীবিকার অনিশ্চয়তা ও সামাজিক চাপ মোকাবিলায় মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসও প্রয়োজন। তাই মানসিক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেসিআই ঢাকা সাউথের প্রেসিডেন্ট লোকাল নাইম হায়দার বলেন, মানসিক সুস্থতা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাঘবিধবাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ও পাস্ট লোকাল প্রেসিডেন্ট কাজী মোতায়াজ্জেদ বিল্লাহ এবং আইসিডির সভাপতি আশিকুজ্জামানও বাঘবিধবাদের মানসিক সুস্থতা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে জেসিআই ঢাকা সাউথের চেয়ারপারসন সাখাওয়াত হোসেন, তৌসিফ মুস্তাসিন রাফিন, সিনেটর মো. আতিকুর রহমান সম্রাট, মো. নূর ইয়াশ শামস, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাংবাদিক পিযুষ বাউয়ালিয়া পিন্টুসহ জেসিআই ও আইসিডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন