গর্ভাবস্থায় পিঠ ও কোমরে ব্যথা হওয়া অনেক মায়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। শরীরে হরমোনগত পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তনের কারণে এ সময় পিঠ ও কোমরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ফলে হালকা ব্যথা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হলেও তীব্র বা অস্বাভাবিক ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায় ‘রিল্যাক্সিন’ হরমোনের প্রভাবে শরীরের লিগামেন্ট কিছুটা শিথিল হয়ে যায়। পাশাপাশি গর্ভের সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়ের শরীরের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসে। পেটের আকার বৃদ্ধির কারণে বসা, দাঁড়ানো ও হাঁটার ভঙ্গি পরিবর্তিত হওয়ায় পিঠের পেশি ও মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পিঠের ব্যথা কমাতে সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও দাঁড়ানো, দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে না থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। ঘুমানোর সময় পাশ ফিরে শোয়া এবং প্রয়োজনে দুই হাঁটুর মাঝে ও পেটের নিচে বালিশ দিয়ে সাপোর্ট নেওয়া আরামদায়ক হতে পারে।
তবে পিঠের ব্যথা হঠাৎ তীব্র হলে, ক্রমেই বাড়তে থাকলে কিংবা এর সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব, জ্বর বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক কোনো ব্যথাকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ।
ডা. তাহমিনা আক্তার মুনা
গাইনি, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন
এমবিবিএস (রামেক), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
ডিজিও (গাইনি ও অবস্)
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এসিএস-এএফ (আমেরিকা), সিএমইউ (আল্ট্রা)
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সেনবাগ, নোয়াখালী
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন