লোডশেডিং ও বেশি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালের অভিযোগে গ্রেপ্তার গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহর বাসার বিদ্যুৎ বিল তৈরিতে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়নি বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্ত কমিটি।
সিফাতের অভিযোগ ছিল, গত দুই মাসে তার বাসায় ১০ হাজার টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল এসেছে, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় বেশি। পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সিফাত ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা যায়, সিফাতের বাবার নামে বাসাটিতে তিনটি আবাসিক মিটার রয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে তিনটি মিটারে মোট ১০ হাজার ৬৮১ টাকা বিল এসেছে। পল্লী বিদ্যুতের তদন্ত প্রতিবেদনের বিলের সঙ্গে গ্রাহকের কাছে থাকা বিলের কপিরও মিল পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিট, জুনে ৫০ ইউনিট, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিট এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। চার মাসে মোট ৩২০ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
দ্বিতীয় মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিট, জুনে ২০০ ইউনিট, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিট এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিট ব্যবহার হয়েছে। চার মাসে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
তৃতীয় মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিট, জুনে ১২০ ইউনিট, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিট এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিট ব্যবহার হয়েছে। চার মাসে মোট ৬২৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
পল্লী বিদ্যুতের হিসাবে জুলাই ও আগস্ট মাসের বিল সিফাতের গ্রাহক কপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তদন্তে মিটারেও কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আহসান কবীর বলেন, তিনটি মিটার পরীক্ষা করে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ীই বিল করা হয়েছে এবং বিল তৈরির ক্ষেত্রেও কোনো অনিয়ম হয়নি।
তবে বাসার ভেতরে কী ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন