ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পদত্যাগের দাবি এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনার মধ্যে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি।
পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে কাতোভিৎসেতে পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে যাওয়ার সময় ইনফান্তিনোকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে পদত্যাগের কথা ভাবছেন কি না কিংবা আগামী বছর ফিফা সভাপতি নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রার্থী হবেন কি না—কোনোটিরই সরাসরি উত্তর দেননি ৫৬ বছর বয়সী এই ফিফা সভাপতি।
বরং তিনি বলেন, “অনেক কিছু বলার আছে। তবে সেগুলো বলার জন্য সঠিক জায়গা ও সঠিক সময় আছে। আজ নয়, এখানে নয়। আজ ও এখানে আমরা ফুটবল উপভোগ করছি।”
ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা নতুন করে জোরালো হওয়ার পেছনে রয়েছে ফিফার বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা। বিশ্বকাপের স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল উয়েফা ও কয়েকটি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন। এমনকি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ বা তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও ওঠে।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি পর্যন্ত গড়ায়। পরে ফিফা ওই বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা আর ফিরিয়ে আনবে না—এমন আশ্বাস পাওয়ার পর উয়েফা ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো বয়কটের অবস্থান থেকে সরে আসে।
এর মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব থাকলেন ইনফান্তিনো। তবে ফিফায় কাজের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তকে সুযোগ, মর্যাদা ও উন্নতির পথ করে দেওয়া এবং সবাইকে ফুটবল উদ্যাপনের সুযোগ করে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। বর্তমানে তার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। এর আগে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
তবে এবার সরাসরি প্রশ্নের মুখে তার নীরবতা নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফিফার সর্বোচ্চ পদে তিনি থাকবেন কি না, কিংবা আগামী নির্বাচনে আবারও লড়বেন কি না—সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি ইনফান্তিনো।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন