স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর সংগ্রহ করতে পারবেন না। একইভাবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS)–এ লেনদেনের জন্য ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করে এ বিধান জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধান করা হয়েছিল।
NID ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা
নতুন আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে ভোটার বা তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত NID নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। MFS–এ লেনদেনের উদ্দেশ্যেও তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ভোটারকে প্রভাবিত করতে অর্থের ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা নিষিদ্ধ
আচরণবিধি অনুযায়ী, মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং, প্যাগোডা, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।
একইভাবে সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা যাবে।
নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না
নির্বাচন উপলক্ষে কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না। অনভিপ্রেত গোলযোগ বা উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে কারও শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভোটারকে প্রভাবিত করতে বলপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয় নিষিদ্ধ
কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ কিংবা অর্থ ব্যয় করা যাবে না। অর্থাৎ ভোট আদায়ের জন্য অর্থের পাশাপাশি ভয়ভীতি বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও ভোটারকে প্রভাবিত করা নিষিদ্ধ।
ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিষিদ্ধ
নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বিস্ফোরক, বিস্ফোরক দ্রব্য, অস্ত্র বা গোলাবারুদ বহন করতে পারবেন না।
মাইক ব্যবহারে সময় ও শব্দসীমা
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাইকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাচনে উপজেলার অধীন কোনো ইউনিয়ন বা পৌরসভায় একই সময়ে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান একটির বেশি মাইক বা শব্দের মাত্রা বাড়ানোর যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।
নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না। এসব যন্ত্রের শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচনপূর্ব সময়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
এদিকে সেপ্টেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরে ভোটগ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন