গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়।
ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গত ৬ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো লে-অফে রয়েছে। পরে কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুসারে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছাঁটাই করা হবে। তাঁদের আইনানুগ পাওনাও পরিশোধ করা হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা যায়।
কারখানার সুইং সেকশনের অপারেটর স্বপ্না বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায় কাজ করছেন তিনি। চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
আরেক অপারেটর নজরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি কারখানাটিতে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চাকরি পাওয়াও কঠিন। চাকরি না পেলে বাধ্য হয়ে অটোরিকশা চালানোর কথা ভাবতে হবে।
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাঁদের চাকরি বহাল রয়েছে, তাঁরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী সুবিধা পাবেন।
এদিকে ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন