হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন একটি করিডরের মানচিত্র প্রকাশ এবং ওমান ও পারস্য উপসাগরে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে ঠিক কখন তা জানানো হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবিও করেছে দেশটি।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ শুরুর স্থান থেকে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এ এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে নৌ-অবরোধের সীমা পর্যন্ত একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযানের কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেজায়ি সম্ভবত ‘কাসেম বসির’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরানের গণমাধ্যমের দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়িয়ে গেছে।
ইরান দাবি করেছে, কাসেম বসির ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নয়ন করা হয়েছে। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, এর গতিপথে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম। পাশাপাশি এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবিলায়ও কার্যকর বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের দাবি, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরান বর্তমানে আরও কঠিন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকা ঘোষণার উদ্যোগ নিলে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন