বিদ্যমান কারাগারগুলোতে বন্দির চাপ কমাতে চট্টগ্রাম বিভাগের সাত উপজেলায় ‘সাব-জেল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত উপজেলাগুলো হলো—নোয়াখালীর হাতিয়া, কক্সবাজারের মহেশখালী ও চকরিয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া, সন্দ্বীপ ও বাঁশখালী এবং বান্দরবানের লামা।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া জানান, এসব উপজেলায় চৌকি আদালত থাকায় সেখানে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আদালতের মামলার আসামিদের বর্তমানে শহরের কারাগারে নিয়ে যেতে হয়। এতে বন্দি স্থানান্তরে ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মঘণ্টাও ব্যয় হচ্ছে।
তিনি বলেন, চৌকি আদালত থাকা উপজেলাগুলোতে সাব-জেল নির্মাণ করা গেলে সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিদের শহরের কারাগারে স্থানান্তর না করে স্থানীয়ভাবে রাখা সম্ভব হবে। এতে একদিকে বন্দিদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে জেলা শহরের কারাগারগুলোর ওপর চাপও কমবে।
চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ কারাগার
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে বর্তমানে ১২টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৪৯ জন এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭৪২ জন।
এ ছাড়া রাঙামাটি জেলা কারাগারে ১৪৫, বান্দরবান জেলা কারাগারে ১১৪, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে ৮১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ৭৮০, কক্সবাজার জেলা কারাগারে ৮৩০, চাঁদপুর জেলা কারাগারে ৪৭৫, নোয়াখালী জেলা কারাগারে ৫০০ এবং লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে ২৯৫ জন বন্দি রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে।
ফেনী জেলা কারাগার-১-এর ধারণক্ষমতা ৩৯২ জন এবং কারাগার-২-এর ধারণক্ষমতা ১৭২ জন।
ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বন্দি
কারা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বিভাগের কারাগারগুলোতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি বন্দি অবস্থান করেন। গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার বন্দি এসব কারাগারে থাকেন।
শুধু চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার বন্দি থাকেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিআইজি প্রিজন্স মো. ছগির মিয়া বলেন, বন্দিদের ধারণক্ষমতা সমন্বয় এবং জেলা শহরের কারাগারগুলোর চাপ কমাতেই সাব-জেল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এসব কারাগার নির্মাণ করা গেলে বন্দি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবটি কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে, যাতে বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে আসে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া যায়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন