গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট—সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সরকারের তৈরি নয়। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে সংকট সমাধানে সরকার বসে নেই।
তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি দ্রুত গ্যাস আমদানির জন্য পার্শ্ববর্তী ও নিকটবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে রিজভী বলেন, টার্মিনালে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং তা মেরামতের কাজ চলছে। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে এলএনজি সরবরাহে বাধা এবং গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমান সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলএনজি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এ পরিস্থিতিতে কঠিন হয়ে পড়েছে।
রিজভী বলেন, বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সংকট সমাধানের পথও দেখাতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের উদ্যোগকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত ১৭ বছরের অনিয়মের প্রভাবও বর্তমান সংকটে রয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। এতে জাতীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।
চলমান সংকটে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার তার জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে।
সেমিনারে জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন