সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য আলাদা বিষয় এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেক কথা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রাবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং ভারতে অবস্থান করে তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বৈঠকে গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য আলাদা বিষয়। এ বিষয়ে অনেক কিছু বলা হয়েছে। আজ আমি এ বিষয়ে যেতে চাই না।’
এ সময় মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে সুখবর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘খুব শিগগিরই মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে আপনাদের একটি ভালো খবর দিতে পারব।’
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে নিজের উদ্যোগে দেশে আসতে হবে না; সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, তার আপিলের সুযোগ নেই এবং বাংলাদেশে তার মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে জাহেদুর রহমান বলেন, তার পক্ষ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমে এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে—এটি বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাশা করেনি।
তিনি বলেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের বাস্তবতায় শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে ভারত সরকার অন্তত সম্পর্ক উন্নয়নে একটি পদক্ষেপ নিতে পারত। কেন তা করা হচ্ছে না, সে প্রশ্ন ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি মিডিয়া কনফারেন্সে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশ আপত্তি জানিয়েছিল।
এদিকে ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ১২-১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। তবে সেই সফর অনুষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে ব্রিকস সম্মেলনেও তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রঃ নিউ এইজ
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন