ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তেহরান গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুইবার লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী জাহাজ এবং ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছে প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা আরও একটি জাহাজকে নিশানা করা হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব জাহাজ বহু বিলিয়ন ডলারের একটি ‘ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ, যা আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়নে সহায়তা করে।
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান থেকে জর্ডানের দিকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
অন্যদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন বাহিনী ‘সফলভাবে এড়িয়ে গেছে’ এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
ট্যাংকারে হামলার হুঁশিয়ারি
ইরান আরও পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তেহরান বলেছে, নোঙর করা অবস্থায় বা বন্দরে থাকা এসব জাহাজ অবিলম্বে ছেড়ে যেতে হবে। অন্যথায় সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই ট্যাংকার হারাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তেলের বাজারে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এশিয়ার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছায়।
মার্কিন হামলায় আক্রান্ত সর্বশেষ ইরানি তেলবাহী জাহাজটি খার্গ দ্বীপের কাছে ছিল। এই দ্বীপে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল রয়েছে। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই টার্মিনালের মাধ্যমে রপ্তানি করা হয়। মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সেখানে নেওয়া হয়।
ফলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং তেলের দামের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
সৌদি আরবেও হামলা
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা মঙ্গলবার সৌদি আরবে জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সৌদি সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল স্থাপনা ও অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়। এর ফলে কিছু স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
মার্কিন ড্রোন নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি চালকবিহীন মার্কিন সাবমেরিন দখল করেছে।
তবে সেন্টকমের মুখপাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এ দাবি নাকচ করে বলেন, মার্কিন বাহিনী পরিচালিত পানির নিচের ড্রোনটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে যায়।
তিনি জানান, আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান অভিযানকে সহায়তা করতে ড্রোনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিকল ড্রোনটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য, গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
টিম হকিন্স জানান, আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন