মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
অন্যদিকে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও দুটি মার্কিন জলযান ও আটটি ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল।
পাঁচ ইরানি ট্যাংকারে হামলা
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুইবার লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করে। তবে মার্কিন দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজটি হামলার চেষ্টা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং এতে কোনো মার্কিন কর্মী হতাহত হননি।
এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১ ও এম/টি রিয়েস্কো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এম/টি দেরিয়াতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, জাহাজগুলোকে অচল করে দেওয়ার আগে সেখানে থাকা নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার কথা জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাল্টা হামলার দাবি ইরানের
ইরানের দাবি, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের নৌবাহিনী আরও দুটি মার্কিন জলযান ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার দাবি জর্ডানের
এদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও মোকাবিলা করেছে। এর মধ্যে ১৮টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে জর্ডান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান প্রণালিটি বন্ধ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে পৌঁছেছে।
ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন