পাবনার ভাঙ্গুরায় চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে ১৭ বছর পর ঢাকার শাহ আলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৩-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে র্যাব-৩-এর একটি দল শাহ আলী থানাধীন মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে শফিকুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট রাতে শফিকুল ও তার সহযোগীরা বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ফারুক নামে এক ব্যক্তির ভ্যান ভাড়া নেন। ওই রাতে ফারুক বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বিষয়টি ভাঙ্গুরা থানা পুলিশকে জানানো হয়।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ভাঙ্গুরা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান আলীর পুকুর থেকে ফারুকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফারুকের মা বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গুরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ফারুককে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে তাকে কৌশলে মদ পান করিয়ে তার কাছে থাকা টাকা, স্বর্ণের চেইন ও ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে ফারুক বাধা দিলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করা হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে পাবনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তাদের মধ্যে বিলকিস ও আবদুল করিম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক।
র্যাব-৩ জানায়, মামলা হওয়ার পর থেকেই শফিকুল দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। এ সময় তিনি নিজের নাম ও বেশভূষা পরিবর্তন করেন। ভাঙ্গুরা থানার অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-৩ ছায়া তদন্ত শুরু করে তার অবস্থান শনাক্ত করে।
পরে শাহ আলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শফিকুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন