দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ করিডোর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর আওতায় পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নকশাও চূড়ান্ত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোর উন্নয়নে সরকারের তিন স্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ইলেকট্রিক ট্রেনের নকশা চূড়ান্ত
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইলেকট্রিক ট্রেন চালু হলে রুটটিতে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দূরত্ব কমাবে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্ডলাইনটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব কমবে। একই সঙ্গে ট্রেনের গড় গতিও বাড়বে, ফলে কম সময়ে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে।
পুরো রুট হবে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর অংশ হিসেবে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে।
লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন