অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূসক, ঢাকার এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে নজরদারিতে আনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘আলফা ই-শপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে এনবিআর।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ জানান, মঙ্গলবার নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূসক, ঢাকার দুটি নিবারক দল আলফা ই-শপের বনানী-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরে অবস্থিত দুটি শোরুমে একযোগে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক নথি জব্দ করা হয়। এসব নথি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে প্রায় দুই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্য বিক্রি
এনবিআর জানায়, আলফা ই-শপ বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের ফ্যান, ডেকোরেটিভ ফ্যান, আধুনিক লাইটিং, ঝাড়বাতি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, এসি, টিভিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে বিক্রি করে আসছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ইন্টেরিয়র ডিজাইন টিমের মাধ্যমে বাসা ও অফিসের ডেকোরেশনের কাজও করা হয়।
ক্রেতা আকর্ষণে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে এনবিআর।
জব্দ করা নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, করপোরেট সেল, শোরুম সেল, বনানী অনলাইন শোরুম সেল, অনলাইন কল সেল, অনলাইন হোয়াটসঅ্যাপ কল সেল, অনলাইন ডিলার সেল ও ওয়েবসাইট সেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পণ্য বিক্রি করা হয়েছে।
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া
এনবিআর সূত্র জানায়, উদঘাটিত রাজস্ব ফাঁকি পরিশোধ করতে আলফা ই-শপ কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছে।
তবে জব্দ করা নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনার পর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন