দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকার। তবে ডিজেল, জেট এ-১ ও ফার্নেস অয়েল কেনার পাঁচটি প্রস্তাবের কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
এসব প্রস্তাবে সুপারিশ করা দরদাতাদের সঙ্গে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত মূল্য ও ভিত্তিমূল্য নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত দর নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) মূল্যের সঙ্গে প্রতি ইউনিট এলএনজির দামে শূন্য দশমিক শূন্য ছয় মার্কিন ডলার যোগ করে মূল্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
পাঁচ প্যাকেজে জ্বালানি কেনার প্রস্তাব
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পাঁচটি প্যাকেজে ডিজেল, জেট এ-১ ও ফার্নেস অয়েল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব জ্বালানি কেনায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা।
পিজি-০১: ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১। সম্ভাব্য ব্যয় ৪ হাজার ৮০৩ কোটি ২ লাখ টাকা। এ প্যাকেজে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
পিজি-০২: ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১। সম্ভাব্য ব্যয় ৪ হাজার ৩২৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
পিজি-০৩: ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। সম্ভাব্য ব্যয় ৭৯২ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
পিজি-০৪: ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
পিজি-০৫: ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল। সম্ভাব্য ব্যয় ৮০১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দরদাতাদের সঙ্গে প্রস্তাবিত দর নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত প্রস্তাব পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর এসব জ্বালানি কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন