দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তির রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কোনো ধরনের প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ নির্দেশনা দেন।
প্রতিনিধিদলে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনে বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দুর্নীতি দেশের অগ্রগতির বড় প্রতিবন্ধক
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে দুর্নীতি বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার ওপর জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সততা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন থাকা দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
বড় দুর্নীতিতে দ্রুত অনুসন্ধানের তাগিদ
গুরুতর ও বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনায় কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দুদককে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন রাষ্ট্রপতি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন