পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন রেল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেন চলাচল বর্তমানের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল সরাসরি একীভূত হবে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা দফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই রেলপথ ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করবে। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে রেল যোগাযোগ।
বাড়বে পর্যটনের সুযোগ
পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে দেশের পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই যাত্রায় পর্যটকরা দেশের উত্তরের পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং দক্ষিণের সমুদ্রসৈকত ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
এর ফলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
কমবে পণ্য পরিবহনের খরচ
এই রেলপথের অন্যতম বড় সুবিধা হবে পণ্য পরিবহন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হবে।
একইভাবে দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত লবণ, শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য সরাসরি উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় পরিবহন করা যাবে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি পণ্য দ্রুত বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিংস্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, প্রকল্পটি রেলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল একীভূত হবে। দুই প্রান্তে সরাসরি ট্রেন পরিচালনার জন্য ইঞ্জিন, কোচসহ প্রয়োজনীয় রোলিংস্টকও কেনা হচ্ছে।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, পুরো রেলপথ একই ধারায় উন্নত করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন বলেন, পঞ্চগড় থেকে ঢাকা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো রুটে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ায় রেলওয়ের ওপর দায়িত্বও অনেক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুতগতিতে ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন