কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আবারও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং তীব্র হয়। ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আদানি পাওয়ার রোববার সকালে এক বার্তায় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিট-২ সফলভাবে চালু করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে সিনক্রোনাইজ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দুপুরের আগেই এ ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
এর আগে আগস্টের শুরুতে ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। তবে আগস্টের শেষ দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। গত বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয় এবং দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হয়।
চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে। বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন