২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। দুটি মামলার মধ্যে একটি হত্যা এবং অন্যটি হত্যাচেষ্টার মামলা।
অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকসহ মোট ১০৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
হত্যাচেষ্টা মামলায় ৩০ জন
মেহেদী হাসান প্রান্ত হত্যা ও নাদিমকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। একই সঙ্গে ৬৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যদের নাম রয়েছে।
অব্যাহতির সুপারিশ করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসানসহ অনেকে।
মামলাটিতে কামরুল ইসলাম ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তিনজন কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
যাত্রাবাড়ী থানার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মহিন উদ্দিন জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান প্রান্ত ও নাদিম। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে প্রান্ত গুরুতর আহত হলে তাকে সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাদিমের বাম হাঁটুতেও গুলি লাগে এবং চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন।
পরে ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর প্রান্তের চাচার পরিচয়ে নাদিম শেখ হাসিনাসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলা
অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান।
এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, এস এম শাহজাদা, মহিউদ্দিন মহারাজ, পঙ্কজ দেবনাথ, সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও হাবিবুর রহমানসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে।
অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছেলে আবু তালেবকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন তার বাবা বাবুল মৃধা। লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে এবং পরে ২২ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তিনজন কারাগারে রয়েছেন। আট আসামি জামিনে এবং অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন