মহাকাশে প্রথমবারের মতো অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স জানায়, কক্ষপথে ‘অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপন’ মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অস্ত্র শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে প্রতিরোধ বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে অস্ত্রগুলোর ধরন বা সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ সক্ষমতার মধ্যে প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক—দুই ধরনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মহাকাশকে অস্ত্রায়ন ও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার বিরোধিতা করে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, বেইজিং মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করার আহ্বান জানান।
চীন ও রাশিয়াকে হুমকি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
নিজেদের ঘোষণায় চীন ও রাশিয়াকে মহাকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কৌশলের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সক্ষমতা তৈরি ও পরিচালনা করছে। রাশিয়াকেও ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের। কৃত্রিম উপগ্রহ সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এসব সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
১৯৬৭ সালের চুক্তিতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ
মহাকাশের সামরিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ১৯৫৭ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘স্পুটনিক’ উৎক্ষেপণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কাজ শুরু করে।
পরবর্তীতে মহাকাশে পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ঝুঁকি কমাতে ১৯৬৭ সালে ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ কার্যকর হয়। চুক্তিটিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রচলিত কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক মহাকাশ অস্ত্রের বিষয়ে চুক্তিতে একই ধরনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই।
এরপরও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিপক্ষের কৃত্রিম উপগ্রহকে অকার্যকর বা ধ্বংস করার মতো মহাকাশবিরোধী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে। ফলে কক্ষপথে সামরিক প্রতিযোগিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন