জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি নজরে রাখছে বিএনপি। তবে এসব কর্মসূচিকে আপাতত বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দলটি। একই সঙ্গে বিরোধীদের কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়েও বিএনপির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলের কর্মসূচির জবাব দিতে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছে না দলটি। তাদের মতে, সরকারে থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে তারা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে সরকার সংসদে এসব কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া জানাত না। তিনি বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার সক্ষমতা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের পর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে জোটটি। পরবর্তী সময়ে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে।
রংপুর অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোটের আট দফা দাবি পরিস্থিতি অনুযায়ী এক দফায় পরিণত হতে পারে। তিনি সরকারকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে একই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করছে। তবে এসব বক্তব্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।
বিএনপির নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের কর্মসূচি পালনকে তারা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে দেখছেন। তবে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
বিরোধীদের ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জনগণের কাছে তুলে ধরার বিষয়টিও বিএনপির ভেতরে গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রাখা যায়, সেটিও সামনে আসছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন