জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক কূটনৈতিক দপ্তরের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রবেশ ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে তারা দুঃখিত। জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান চুক্তি এবং আয়োজক দেশ হিসেবে ওয়াশিংটনের দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও) ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের আওতায় ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসও পড়েছেন বলে এএফপি জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালেও আব্বাসকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে তাকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বক্তব্য দিতে হয়েছিল। এ বছরও আব্বাসকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫২-৩ ভোট পড়ে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন, এর ফলে জাতিসংঘের কার্যক্রমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভিসা না দেওয়ার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পিএলও ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে করা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। ওয়াশিংটন আরও অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসীদের অর্থ সহায়তা এবং সরকারি বক্তব্য ও শিক্ষাক্রমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মহিমা প্রচারের মতো নীতি পুরোপুরি পরিবর্তন করেনি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সম্পর্কের উন্নয়ন ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এদিকে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন