বৈশ্বিক সংকট অচিরেই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আবার আগের পর্যায়ে কিংবা তার চেয়েও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি সরকার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়ায় বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, আমরা আশা করছি এই সংকট কেটে যাবে। কারণ সবাই উপলব্ধি করছে, দিন শেষে এই সংকট কারও জন্যই শুভ বার্তা বয়ে আনেনি।’
তিনি বলেন, জ্বালানির বাজার স্বাভাবিক হয়ে এলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল্য আবার সমন্বয় করে আগের অবস্থানে কিংবা তার চেয়েও কম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো বিকল্প না থাকায় সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি উপলব্ধি করেন উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করতে হয় এবং অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। সামনে কোনো বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমানো সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিবদমান পক্ষগুলোর শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে জ্বালানি বাজারেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তখন যৌক্তিক বিবেচনায় জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হবে।
জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশে পাচারের আশঙ্কা বা এ ধরনের কোনো তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে সরকার ঝুঁকির বিষয়টি অনুভব করেছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সরকার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর করেছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও অকটেন ১৪৫ টাকা ছিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন