আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ একগুচ্ছ সংশোধনী এনে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও শিল্প খাতের জন্য বেশ কয়েকটি আমদানি শর্ত শিথিল করেছে সরকার। এর ফলে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবার দিয়ে তৈরি উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাপড় আমদানির সুযোগ বাড়ল। পাশাপাশি শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির নিয়মও সহজ করা হয়েছে।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। Imports and Exports (Control) Act, 1950 এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর ক্ষমতাবলে আনা এসব সংশোধনী অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সীমলেস বা সেলাইবিহীন স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও ফাংশনাল পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের কৃত্রিম তন্তুর কাপড় আকৃতি ও আকার নির্বিশেষে আমদানি করা যাবে। তবে এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সুপারিশ প্রয়োজন হবে।
এ ছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি বা চুক্তিপত্রের বিপরীতে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) বা ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) অনুযায়ী বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্য রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রী আমদানির সুযোগ আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত পরিমাণে নিষিদ্ধ বা শর্তযুক্ত তালিকাভুক্ত পণ্যও আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অপ্রত্যাহারযোগ্য ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি) ব্যবস্থার মাধ্যমেও পণ্য আমদানি করা যাবে।
বন্ড লাইসেন্সধারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য লবণ আমদানির নিয়মও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত বার্ষিক চাহিদা ও প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে পোষক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের প্রয়োজন হবে না।
শিল্প খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ছাড়াই ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি করতে পারবে। উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে সাধারণ বীমা করপোরেশন, বাংলাদেশি বীমা কোম্পানি অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি বীমা কোম্পানির ইস্যু করা কভার নোট ও বীমা পলিসি পণ্য খালাসের সময় অনলাইনে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদা, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যেই এসব সংশোধনী আনা হয়েছে। বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশ বাড়াতে নতুন সুবিধাগুলো সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন