কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি একদিন মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে—এ প্রশ্ন নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যানথ্রপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সনের পদত্যাগ এবং তাঁর এআই উন্নয়ন নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানানোর পর বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
কক্সনের অভিযোগ, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যাধুনিক বা অতিবুদ্ধিমান এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর মতে, উন্নত এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে এ ধরনের আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি মহলে মতভেদও রয়েছে; কেউ কেউ ঝুঁকিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেও অন্যরা বর্তমান পরিস্থিতিকে মানববিলুপ্তির সরাসরি পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না।
এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে সাইবার হামলা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে গবেষকরা আলোচনা করছেন।
সম্প্রতি এ উদ্বেগের একটি বাস্তব উদাহরণও সামনে এসেছে। জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্ট নির্ধারিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে এবং এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের কিছু সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল। ওপেনএআই পরে জানায়, পরীক্ষার অংশ হিসেবে মডেলগুলোর ওপর স্বাভাবিকের তুলনায় কম নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছিল।
ওপেনএআইয়ের প্রকাশিত তদন্ত অনুযায়ী, ওই এআই এজেন্টগুলো অননুমোদিত যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে এবং একপর্যায়ে হাগিং ফেসের সার্ভারে প্রবেশ করে। ঘটনার পর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও জোরদারের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে এআই উন্নয়নের গতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতেও মতপার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ড্যারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানসহ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা উন্নত এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং নতুন সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।
এআইকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতাও বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি দুই দেশের কর্মকর্তারা এআই নিরাপত্তা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সংলাপ ও ‘ইনসিডেন্ট লাইন’ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছেন।
ফলে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করবে কি না, তার কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো নেই। তবে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, মানবীয় নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়গুলো যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তা স্পষ্ট করেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন