মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘জঘন্য ও অপরাধমূলক উপস্থিতি’ থেকে মুক্ত করতে হবে এবং তাদের অঞ্চলটি ছেড়ে যেতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আইআরজিসির এই কঠোর বার্তার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে ইরান কিছু শর্তও জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরাকও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনে নানা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তেল রপ্তানি সচল রাখতে উপসাগর ও ওমান উপকূলের কাছে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে অপরিশোধিত তেল স্থানান্তরের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন এখনো চললেও সংঘাতের কারণে এর ব্যয় ও ঝুঁকি বেড়েছে। বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় অতিরিক্ত খরচ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও প্রভাব ফেলছে। মঙ্গলবার সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রত্যাশায় অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দরবৃদ্ধি সাম্প্রতিক পতনের পর একটি সাময়িক পুনরুদ্ধারও হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুথিদের তৎপরতা, হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন