ভারতের দক্ষিণি সিনেমার অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী গত এক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রয়েছেন। ইনস্টাগ্রামসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকার কারণে মানসিকভাবে বেশ স্বস্তিতে আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘দ্য হলিউড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার কারণ বিস্তারিত তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারাক্ষণ নিজেকে তুলে ধরার যে চাপ থাকে, সেখান থেকে দূরে থাকায় তিনি মানসিকভাবে অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে ইনস্টাগ্রাম পুরোপুরি ছেড়ে দেবেন—এমন পরিকল্পনা শুরুতে তাঁর ছিল না।
অভিনেত্রী বলেন, কাজের প্রয়োজনে কিছুদিনের জন্য ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ‘অশালীন এডিট সংস্কৃতি’ দেখতে দেখতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার আগে নিয়মিত বার্তা ও মন্তব্য পড়তেন বলেও জানান ঐশ্বরিয়া। তাঁর কথায়, এসব মন্তব্য পড়তে গিয়ে অনেক সময় মনে হতো যেন গোটা পৃথিবী তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে দেখা হলে সেই অনুভূতি আর হয় না।
ঐশ্বরিয়ার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক সময় অত্যন্ত বিষাক্ত ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। সেখানে মানুষের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার চাপ থেকে দূরে থাকাই বর্তমানে তাঁর কাছে বেশি স্বস্তিদায়ক বলে মনে হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না থাকার কারণে কিছু কাজের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে—এ বিষয়টি তিনি জানেন। তবে এখন সিনেমাই তাঁর জীবনের সবকিছু নয়। পছন্দের কোনো কাজ পেলে বছরে একটি সিনেমা করেও তিনি সন্তুষ্ট থাকবেন বলে জানান অভিনেত্রী।
ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী কেরালার তিরুবনন্তপুরমের বাসিন্দা। অভিনয়ে আসার আগে তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে ২০১৭ সালে মালয়ালম সিনেমা ‘নজান্ডুকালুডে নাট্টিল ওরিডাভেলা’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক করেন। একই বছর ‘মায়ানাধি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
ঐশ্বরিয়ার সর্বশেষ সিনেমা ‘আশা’। সিনেমাটি গত ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন