প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় প্রায় ১৫ মিনিট বক্তব্য দেবেন তিনি।
ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারও তুলে ধরবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ঘিরে তাঁর রাজনৈতিক ও পারিবারিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে। তাঁর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেওয়াকে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণের আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ভাষণ শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সারাদিনের কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, নিউইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় তুর্কি হাউসে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘মূল্যবান ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে বিস্তৃত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে অভিন্ন অবস্থান এবং মানবিক ইস্যুতে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় নেতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিশেষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন