আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা দীর্ঘদিনের। ৪২-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্তুগিজ মহাতারকা ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখবেন কি না, তা নিয়ে ছিল নানা আলোচনা। তবে আপাতত অবসরের পথে হাঁটছেন না রোনালদো।
পর্তুগিজ তারকা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা তিনি সত্যিই ভেবেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলেছেন। জাতীয় দলকে এখনো দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার লিসবনে ওয়েলসের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে ২৩৪তম ম্যাচ খেলতে নামবেন রোনালদো। কোচ হর্হে হেসুসও জানিয়েছেন, ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে থাকবেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বিশ্বকাপের পর অবসরের কথা ভেবেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, ভেবেছিলাম। অবশ্যই। আমি সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ, এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবি। আমি একজন চিন্তাশীল মানুষ। ভাবতে হয়। আর এ কারণেই আপনারা আমাকে এখন এখানে দেখছেন। এর অর্থ হলো, আমি চালিয়ে যাব।’
জাতীয় দল থেকে অবসরের সময় সম্পর্কে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। যতদিন মনে হবে দলকে কিছু দেওয়ার আছে, ততদিন তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
রোনালদো বলেন, ‘আমি আমাদের সভাপতির সঙ্গে, আমাদের কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমি সাহায্য করতে পারি। আর আমি তখনই শেষ করব, যখন মনে হবে এখানে আমি আর কিছুই করছি না।’
জাতীয় দলে নিজের ভূমিকা শুধু গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও মনে করেন রোনালদো। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের পাশে থাকাকেও নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।
রোনালদোর ভাষায়, ‘আমি জাতীয় দলকে শুধু গোলের মাধ্যমে নয়, মাঠের বাইরেও সমর্থন দিতে পারি। এটি একটি নতুন তরুণ প্রজন্ম। তবে আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে থাকতে পারা, গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করা।’
ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে লিসবাদের জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে—রোনালদোর প্রথম ক্লাব স্পোর্টিংয়ের মাঠে। এ কারণে ম্যাচটিকে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে দেখছিলেন অনেকে। তবে রোনালদোর সাম্প্রতিক বক্তব্যে আপাতত অবসরের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
পর্তুগালের জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘আ বোলা’র এক জরিপে ওয়েলস ম্যাচের সম্ভাব্য একাদশে রোনালদোকে রাখা হয়নি। এ নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
রোনালদো বলেন, ‘আমি পর্তুগালের মানুষের ভালোবাসা অনুভব করি। তবে আমি বুঝি, কিছু টেলিভিশন চ্যানেল আমাকে সমালোচনা করতে চায়। তারা চায় আমি আর জাতীয় দলে না আসি।’
সমালোচনা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয় বলেও জানান পর্তুগিজ তারকা। দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির সঙ্গে তিনি অভ্যস্ত। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যারা তাঁকে ভালোবাসেন, তাদের সঙ্গে থাকা।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ৯৭৯। ফলে ১ হাজার গোলের মাইলফলকও তাঁর ক্যারিয়ারের আলোচনায় রয়েছে। তবে রোনালদো জানিয়েছেন, সংখ্যাটি নিয়ে তিনি বিশেষভাবে চিন্তা করছেন না।
তাঁর লক্ষ্য বরং নিজের প্রভাব ধরে রাখা। রোনালদো বলেন, তরুণরা তাঁকে উদাহরণ হিসেবে দেখে। তিনি অবসর নেওয়ার পরও, এমনকি আরও ১০ বছর পরেও, সেই অনুপ্রেরণার জায়গাটি ধরে রাখতে চান।
ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় দলকে কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আছে বলে মনে করা পর্যন্ত পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যেতে পারে এই মহাতারকাকে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন