ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটটি মরদেহ এসেছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, অসুস্থতা এবং কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে।
মৃতদের মধ্যে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি, এক নির্মাণশ্রমিক, এক গৃহবধূ, দুই হাজতি ও দুই পোশাকশ্রমিক রয়েছেন। বুধবার ও বুধবার রাতে পৃথক এসব ঘটনায় মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়েটিং রুমের সামনে থেকে প্রায় ৭০ বছর বয়সী আরেক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আইয়ুব আলীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনিও ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। প্রাথমিকভাবে অসুস্থতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। দুই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর ডেমরার মুসলিম নগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে আব্দুস সালাম শেখ (২৫) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ওই ভবনেই নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে মরদেহ লিফটের ফাঁকা জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল কোনাপাড়া এলাকায় স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে মানছুরা আক্তার মিনারা (২০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বুধবার তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের পরিবারের দাবি, স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। বুধবার ঝগড়া ও হাতাহাতির পর স্বামী বাসা থেকে বেরিয়ে গেলে মিনারা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে তাকে ঘরের চালের অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। ঘটনার পর নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে দুই হাজতির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ ইফতেখার মাহমুদ (৩৬) ও মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসাইন পলাশ (৩৮)। বুধবার রাতে পৃথক সময়ে তাদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইফতেখার মাহমুদের মৃত্যু হয়। অপরদিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসাইনকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা কোন মামলায় কারাগারে ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গাজীপুরের কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে গাজী রাফিস আহমেদ (৩২) নামে এক পোশাকশ্রমিক নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাস্তার পাশে ঝালমুড়ি খাওয়ার সময় পাশের দোকানের এক বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা চলছিল। রাফিস সেখানে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে ওই বিক্রেতা ছুরি দিয়ে তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢামেকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীর তুরাগের নলভোগ কবরস্থানের সামনে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. হাসান (৪৮) নামে এক পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে কারখানার কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান হাসপাতালে এসব মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ পৃথক ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন