রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আটক হওয়া দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে ইউক্রেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় জেলেনস্কি বলেন, সম্প্রতি দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী জীবিত আটক করে। রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা অংশ নেওয়ার পর তারাই প্রথম জীবিত আটক হওয়া উত্তর কোরীয় সেনা হিসেবে পরিচিত।
জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধবন্দী হিসেবে আটক হওয়ার সময় একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাকে জীবিত আটক করা সম্ভব হওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন বলেও জেলেনস্কি উল্লেখ করেন।
আটকের পর জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ায় আটক ইউক্রেনীয়দের সঙ্গে ওই দুই সেনার বিনিময়ে সহযোগিতা করলে তাদের উত্তর কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিল। উত্তর কোরিয়ায় ফিরে গেলে তারা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সেনাই দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ইউ ইয়ং-ওন দাবি করেছেন, দুই সেনা তৃতীয় একটি দেশ হয়ে কয়েক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছেন। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানান, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা তাদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকতে পারে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই সেনার স্থানান্তরের নির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করেনি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনসহ সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে। দুই সেনার স্বাধীন ইচ্ছা, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি সমাধানের অবস্থানে রয়েছে সিউল। তাদের নিরাপত্তা ও পরিবারের বিষয় বিবেচনায় স্থানান্তরের সময়, পথ বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ও জেলেনস্কির বৈঠকেও উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইয়োনহাপ।
এদিকে রাশিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে সেনাদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন। এটি জেলেনস্কির বক্তব্য ও অভিযোগ; এর বিপরীতে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান এ প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি।
ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিতে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার কামান ও একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সরবরাহের কথা বলা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন