আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বামপন্থি দলগুলোও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। তবে নির্বাচনের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ, নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে তারা।
বাম দলগুলোর নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাদের জন্য তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি সুযোগ। তবে অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচনের বাস্তব পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে চান তারা।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংস্কারে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের আচরণবিধির খসড়া প্রকাশ করেছে কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় যোগ্যতা পূরণকারী যেকোনো দলের প্রার্থী অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বাম দলগুলোর নেতারা মনে করছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় সাংগঠনিক সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে কৃষক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ককে ভোটে রূপান্তর করার চেষ্টা থাকবে তাদের।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তবে শুধু তফসিল ঘোষণা করলেই হবে না, নির্বাচনের মাঠে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এসব শর্ত নিশ্চিত হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে দলটি।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ভোটার যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, প্রার্থী যেন ভয়ভীতি ছাড়া প্রচার চালাতে পারেন এবং প্রশাসন যেন কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করে—এসব বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, নির্বাচন শুধু ভোটের দিনের বিষয় নয়; মনোনয়ন থেকে প্রচার, ভোটগ্রহণ থেকে ফলাফল ঘোষণা—পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনকে মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দলটির নেতাকর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, তারা নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে চান না। তবে নির্বাচন যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থবল, পেশিশক্তি ও প্রশাসনিক প্রভাব যাতে কোনো প্রার্থী ব্যবহার করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
বাম দলগুলোর নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও নির্বাচনের পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ—এসব বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন