জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়েছে। নতুন ভাড়া কার্যকর হলেও রাজধানীর অনেক বাসে এখনো নতুন ভাড়ার তালিকা টাঙানো হয়নি। এর মধ্যেই বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাসের চালক ও সহকারীদের বাগ্বিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় এবং ভাড়া নিয়ে যাত্রী-পরিবহনকর্মীদের মধ্যে বিরোধের এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন ভাড়া কার্যকরের পর বাসে রুটভিত্তিক ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমানভাবে টাঙানোর কথা থাকলেও রাজধানীর অনেক বাসে তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে কোনো নির্দিষ্ট দূরত্বে যাত্রীকে কত ভাড়া দিতে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তালিকা না থাকার সুযোগে পরিবহনকর্মীরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
রাজধানীর বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা জানান, আগে যে দূরত্বে ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, সেখানে এখন নতুন ভাড়ার কথা বলে ৪০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি ভাড়ার হিসাব জানতে চাইলে অনেক ক্ষেত্রে কোনো তালিকা দেখানো হচ্ছে না।
রায়সাহেব বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে যাওয়া মো. আবু সাঈদ বলেন, আগে ওই পথে ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ৪০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। নতুন ভাড়ার তালিকা দেখতে চাইলে পরিবহনকর্মীরা জানান, তাদের কাছে এখনো তালিকা আসেনি। ফলে কন্ডাক্টর যে ভাড়া বলছেন, সেটিই দিতে হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তিনি।
ইমরান আহমেদ নামে আরেক যাত্রী বলেন, সরকার ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন তালিকা বাসে টাঙানো উচিত ছিল। তালিকা না থাকায় যাত্রী ও পরিবহনকর্মী উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে।
ভিক্টর পরিবহনের এক কন্ডাক্টর দাবি করেন, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন। তবে নতুন ভাড়ার তালিকা এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তালিকা পাওয়ার পর সেটি বাসে টাঙানো হবে বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাসকর্মী বলেন, তালিকা না থাকায় যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই তর্ক হচ্ছে এবং কখনো কখনো পরিস্থিতি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
আবুল হোটেল থেকে নতুন বাজারে নিয়মিত যাতায়াতকারী আরিফুল হক বলেন, ওই পথে আগে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ১৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, সরকার প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ালেও যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।
একই রুটে যাতায়াতকারী মো. নাজিবুল ইসলাম বলেন, নতুন বাজার থেকে মালিবাগ রেলগেটের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। সে হিসাবে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়লে মোট ভাড়া এক টাকারও কম বাড়ার কথা। কিন্তু আগে ১০ টাকা নেওয়া হলেও এখন ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
নাজিবুলের দাবি, এই রুটে রাইদা, ভিক্টর, অসীম, তুরাগ ও অনাবিলসহ বিভিন্ন পরিবহনে একইভাবে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাসের সহকারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন, কিন্তু সরকারি ভাড়ার তালিকা দেখাচ্ছেন না।
এদিকে নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বিভিন্ন রুটে তালিকা না থাকা এবং বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে যাত্রী হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।
যাত্রীদের দাবি, নতুন ভাড়ার তালিকা প্রতিটি বাসে দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো এবং তালিকা অনুযায়ী ভাড়া আদায় নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগে নিয়মিত তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন