ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রা ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কারণে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ইসলামাবাদ প্রশাসন ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে পিটিআই ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছিল।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীতে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, সড়ক ও মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক কনটেইনার বসানো হয়েছে। ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ ও অ্যাটকের বিভিন্ন এলাকায় দুই হাজারের বেশি কনটেইনার মোতায়েন করা হয়েছে।
ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। তার মুক্তি এবং কারাগারে তার অবস্থার উন্নতির দাবিতে পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, ইমরানের চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্যও রয়েছে এবং রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি চলছে।
পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে এর আগে দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে আটক করা হয়।
এদিকে পিটিআইয়ের দীর্ঘ পদযাত্রা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে কর্মসূচির সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু হবে।
কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদ ছাড়াও পাঞ্জাবের কয়েকটি জেলায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় এই মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে পিটিআইয়ের বিভিন্ন বিক্ষোভে দলটির সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নতুন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন