রাসায়নিক পণ্যের এইচএস কোডে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। বেনাপোল সার্কেলের গোয়েন্দাদের তৎপরতায় এ ঘটনায় সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা আদায় হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওএসএল ফার্মা লিমিটেডের আমদানি করা ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি ওজনের একটি চালান কায়িক পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। আমদানিকারক পণ্যটিকে ‘ইপক্সাইড রেজিন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এইচএস কোড ৩৯০৭৩০০০-এর অধীনে আমদানি করেন। এ কোডে মোট করভার ছিল ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং সে অনুযায়ী শুল্ক-কর নির্ধারিত হয় ১ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা।
তবে কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে দুই ধরনের ভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নমুনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নমুনা দুটি ইপক্সাইড রেজিন ও পলিঅ্যামাইড রেজিন বলে শনাক্ত হয়। নির্দিষ্ট অনুপাতে এসব উপাদান মেশালে আঠা বা অ্যাডহেসিভ তৈরি হয়।
কাস্টমস ট্যারিফের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী চালানটিকে ‘প্রস্তুত আঠা’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এর সঠিক এইচএস কোড নির্ধারণ করা হয় ৩৫০৬৯১৯০, যেখানে মোট করভার ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
সঠিক এইচএস কোড প্রয়োগের পর দেখা যায়, চালানটির মাধ্যমে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।
কাস্টমস হাউস, বেনাপোলের বিচারাদেশ অনুযায়ী, রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা, অর্থদণ্ড ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সব মিলিয়ে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা আদায় হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, রাসায়নিক পণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করতে কায়িক পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে নমুনা যাচাই এবং কাস্টমস ট্যারিফের যথাযথ প্রয়োগ এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন