যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে আলোচনায় ফেরার আগে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর করে পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশ আগে যেসব বিষয়ে লিখিত সমঝোতায় পৌঁছেছিল, সেগুলো উভয় পক্ষেরই বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করতে হবে যে ইরান সরকারকে উৎখাত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে একাধিক দফা আলোচনার মধ্যেই ইরানের ওপর হামলা হয়েছে বলে তেহরান মনে করে। এ কারণে নতুন করে আলোচনায় বসার আগে লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, হুমকি ও সামরিক চাপ বাড়ালে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। তবে দুই পক্ষ প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চললে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতেও তেহরান প্রস্তুত। তবে তিনি বলেন, আলোচনার পাশাপাশি সামরিক হামলা চালানো হলে তা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তোলে।
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পেজেশকিয়ান। তিনি ইসরায়েলকে সমর্থন বন্ধসহ বেসামরিক মানুষ, শিশু, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ইরানের অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ইরান সম্প্রতি সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব দিয়েছে এবং এর পর আলোচনায় ফেরার কথা জানিয়েছে। তবে এ প্রস্তাবে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন