সুন্দরবনের গভীরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যাওয়া বাউয়ালিদের একটি দলের ওপর অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। একই দলের আরও একজনকে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয় সদস্যের একটি বাউয়ালি দল গত ২৫ সেপ্টেম্বর সরকারি অনুমতি নিয়ে কাঁকড়া ও মাছ আহরণের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের গভীরে যায়। পরে দলের পাঁচ সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরে আসেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিপেটার আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কারও হাত ও কারও পায়ে গুরুতর আঘাতের কথাও জানিয়েছেন স্বজনরা।
অভিযোগ রয়েছে, দলের অপর সদস্যকে একটি ডাকাতদল জিম্মি করে রেখেছে। তাকে মুক্ত করতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে জিম্মি ব্যক্তিকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও স্বজনদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, হামলা ও জিম্মির ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করেই এসব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানো এসব দরিদ্র মানুষের পক্ষে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে জিম্মি ব্যক্তির জীবন নিয়ে পরিবারটি চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।
স্থানীয় বাউয়ালিদের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য সরকারি পাস ও অনুমতি নেওয়ার পরও বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ দিতে হয়। এমনকি বনে প্রবেশ ও আহরণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পক্ষকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে ও বাউয়ালিরা মাছ, কাঁকড়া ও মধুসহ বিভিন্ন সম্পদ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এসব পণ্য দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও অবদান রাখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে জীবিকার জন্য যাওয়া মানুষদের একদিকে বাঘ ও কুমিরের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়, অন্যদিকে রয়েছে ডাকাত ও জলদস্যুদের আতঙ্ক। এ অবস্থায় সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদার এবং বাউয়ালিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জিম্মি ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন